শুভেন্দু অধিকারির ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা চন্দ্রনাথ রথ খুনের সময় ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি আসানসোলের রেজিস্ট্রেশন

স্পষ্ট বার্তা, কোলকাতা ৭মে:-

রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকার ( Suvendu Adhikari)-র ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় এবার সামনে এলো এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে উঠে এসেছে, খুনে ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা মোটরবাইকের রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সূত্র মিলেছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বার্নপুর এলাকা থেকে। আর এই তথ্য সামনে আসতেই নতুন করে রহস্য দানা বাঁধতে শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মোটরবাইকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর WB44D1990। নথি অনুযায়ী, বাইকটির মালিক হিসেবে নাম রয়েছে বিভাস কুমার ভট্টাচার্যের। ২০১২ সালের ৪ মে পশ্চিম বর্ধমান জেলা আরটিও-তে বাইকটির রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছিল এবং সেটির বৈধতা রয়েছে ২০২৭ সালের ২ মে পর্যন্ত।

রেজিস্ট্রেশন নথিতে ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে বার্নপুরের গুরুদ্বার রোডের এবি ৭/১২ নম্বর কোয়ার্টার। তবে বৃহস্পতিবার পুলিশ ওই ঠিকানায় পৌঁছে চাঞ্চল্যকর তথ্য পায়। বর্তমানে সেখানে বসবাস করছেন বার্নপুর সেল আইএসপি কারখানার কর্মী ধরমবীর কুমার ও তাঁর পরিবার। তিনি স্পষ্ট জানান, বিভাস কুমার ভট্টাচার্য নামে কাউকে তিনি চেনেন না।

ধরমবীর কুমার জানান, ২০১৪ সাল থেকে তিনি ওই কোয়ার্টারে বসবাস করছেন। তার আগে ডলি লজ এলাকায় ভাড়া থাকতেন। পরে নিয়ম মেনে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে কোয়ার্টারটি পান। তিনি আরও বলেন, “যে বাইকের নম্বর প্লেটের কথা বলা হচ্ছে, সেই বাইক এখানে নেই। আমার নিজের একটি বাইক রয়েছে, তবে তার নম্বর সম্পূর্ণ আলাদা।”

ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাতে টিভিতে খুনের খবর দেখেছিলাম। কিন্তু বাইকের বিষয়টি সকালে পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে জানতে পারি।”

জানা গেছে, আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের হিরাপুর থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে ওই ঠিকানায় পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ধরমবীর কুমারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য যাচাই করা হয়। ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই গুরুদ্বার রোডের বাসিন্দাদের মধ্যেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, খুনে ব্যবহৃত মোটরবাইকে ভুয়ো নম্বর প্লেট ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও পুরো বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত তথ্য যাচাই করে উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।

About The Author

You might be interested in

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *