দুবছর গাঢাকা দিয়েও রক্ষা পেলো না বৃদ্ধা খুনের অপরাধী

স্পষ্ট বার্তা, আসানসোল ২৮মেঃ-

দুবছর গাঢাকা দিয়েও রক্ষা পেলো না রূপনারায়ণপুর সবজি বাজার  এলাকার ৬৫ বছরের ওই বৃদ্ধা শেফালি রায়ের হত্যাকারী। রূপনারায়নপুর ফাঁড়ির পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আসানসোল আদালতে তুলে।

ঘটনা প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে সালানপুর থানার রূপনারায়নপুর ফাঁড়ির অন্তর্গত রূপনারায়ণপুর সবজি বাজার রোডের উপর  একটি একতলা বাড়ি থেকে দীর্ঘদিন থেকে একা বসবাস করতেন ৬৫ বছরের শেফালি রায় নামে এক বৃদ্ধা । তাকে দেখাশোনা ও বাড়ির কাজ করার জন্য বেশ কিছু লোক রাখা ছিল।  দু বছর আগে ২০ মার্চ ২০২০ সালে বেলা ১১টা নাগাদ শেফালী দেবিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায় তার সহযোগীরা। তারপরেই রূপনারায়নপুর ফাঁড়িতে খবর দিলে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার খবর পায় শেফালী দেবীর ভাই শংকর চন্দ্র রায় । তিনি রাঁচিতে থাকেন পেশায় আইনজীবী। তিনি আসানসোল এসে রূপনারায়নপুর ফাঁড়িতে দিদির অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ এ বিষয়ে অজ্ঞাত ব্যাক্তির বিরুদ্ধে  নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেন। তখন প্রাথমিক তদন্তে  সেটিকে সাধারণ মৃত্যু বলে মনে করা হয়েছিল।

বর্তমানে রূপনারায়ণপুর  ওসি রাহুলদেব মন্ডল শেফালী দেবির মৃত্যু রহস্যের পর্দা উন্মোচনের জন্য দায়িত্ব পেয়ে ব্যোমকেশ বক্সীর কায়দায় খুনিকে ধরে ফেলেন। প্রথমে তিনি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে জানতে পারেন ওই বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে মারা হয়েছিল । কোনভাবেই যা আত্মহত্যা নয় ।এরপরই তিনি একে একে তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারেন সেইবাড়িতে যারা যারা কাজ করত সকলকে ডেকে পাঠান । তাদের প্রত্যেকের বয়ান রেকর্ড করানো হয় ।তবে তিনি জানতে পারেন ওই বাড়িতেই কিরণ দাস নামে আরেক ব্যাক্তি  কাজ করতে যেত।কিন্তু ঘটনার পরপরই সে এলাকা থেকে পলাতক ছিল পরে অবশ্য ঘটনার বহুদিন পর নিজের এলাকা ফিরে আসেন এবং রূপনারায়নপুর পশ্চিম রাঙ্গামাটির হরিজন বস্তিতে থাকতে শুরু করে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই কিরণ দাস যার বয়স ৩৫  তাকে ২৭ মে ওসি রাহুলদেব মণ্ডল ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে আসেন এবং দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সে স্বীকার করে যে সেই সেদিন রাগের বশে শেফালী দেবীকে গলা চেপে খুন করেছিল । রূপনারায়নপুর ফাঁড়ির পুলিশ কিরনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে  আরও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। শেফালী খুনের খুনে অভিযুক্ত কিরন দাসকে পুলিশ আসানসোল আদালতে পেশ করছে । দুবছর পর খুনের ঘটনায় জড়িত ব্যাক্তিতে চিহ্নিত করে অভিযুক্ত ধরার খবর ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থাকে আরও মজবুত করবে বলে মনে করা হচ্ছে ।

About The Author

You might be interested in

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *