দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ জামুড়িয়া শিল্পতালুকের বিভিন্ন বেসরকারি কারখানা অতি প্রাচীন সিংহারন নদীকে ধীরে ধীরে গ্রাস করতে করতে নালার পরিনত করেছে। পাশাপাশি অজয় নদীর পাড় অসাধু ভাবে দখল করছে কোনো এক বেসরকারি কয়লা খনি সংস্থা। এর প্রতিবাদে বিজেপির পক্ষ থেকে জামুড়িয়া সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিল। এর পরেও কোন কাজ না হওয়ায় বিজেপি নেতা তথা আসানসোল কর্পোরেশনের প্রাক্তন মেয়র জিতেন্দ্র তেওয়ারি জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিল। তার পরেই অজয় নদীর যেখানে পাড় দখল করা হয়েছে সেই জায়গা সরজমিনে গেলে ওই জায়গায় চারা গাছ লাগিয়ে দেয় স্থানীয়রা। সেখান দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিল প্রশাসনকে ৭ দিন সময় দেওয়া হল, এর মধ্যে নদীর পাড় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে। ন হলে বিডিও অফিসের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ দেখানো হবে । সেই কথা মতো শুক্রবার
বিডিও অফিসের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ দেখায় জামুড়িয়া বিজেপি কর্মীসমর্থকেরা। এই বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন জিতেন্দ্র তেওয়ারি।
বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি বলেন, যেভাবে জামুড়িয়ার সিংহারন নদী ও অজয় নদীর পাড় দখল করে যে ভাবে নদীর ধংস করার চক্রান্ত চালাছে তার প্রতিবাদে জামুড়িয়া সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক ও জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায় নি। তাই এই বৃষ্টির সময়েও অবস্থান বিক্ষোভে বসতে হল। তিনি বলেন নদীর পুরনা অবস্থায় ফিরিয়ে না দিলে লাগাতার বিক্ষোভ চলবে। তিনি বলেন আগামী ১০ দিন মধ্যে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ না নিলে সারা বাংলার পরিবেশবিদ দের এলাকার নিয়ে এসে সিংহারন ও অজয় নদী পরিদর্শন করব। তাও যদি না হয় তবে গ্রীনট্রাইবুনালে আইনি যা ব্যবস্থা নেওয়ার আমরা নেব। তখন যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেন না বলে এই বিষয়ে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন নি। তিনি বলেন শুধু নদীর পাড় দখন নয় এই কারখানা গুলি আর কি কি করেছে তা আগামী ১২ তারিখে আসানসোলে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলে দেব।
এ বিষয়ে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ইন্দিরা বাদ্যকর জানান, বিষয়টি তদন্ত করে কমিটি গঠন করা হবে এবং এর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামুড়িয়া সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অরুণালোক ঘোষ জানান, সিঙ্গারন নদী জমি দখল নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে তার দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন মিটিংও করা হয়েছে। এমনকি ভূমি দপ্তরের আধিকারিককে জানানো হয়েছে। এছাড়াও কারখানা কর্তৃপক্ষদের বলা হয়েছে সিঙ্গারন নদীতে কোনরকম কেমিক্যাল যুক্ত জল যাতে না পড়ে এবং নদীর পাড়ে যে সকল বেসরকারি কারখানা জমি দখল করেছে সেই জমিটি দখল মুক্ত করা হয়। পাশাপাশি পরিবেশকে বাঁচাতে বৃক্ষরোপনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও কারখান ককর্তৃপক্ষ কে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।