জামুড়িয়া ইকড়া শিল্পাতালুকের বিভিন্ন কারখানার দূষণের জেরে এলাকার মানুষের বেঁচে থাকা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ । এই বিষয়ে মঙ্গলবার জামুড়িয়া দামোদরপুর গ্রাম সহ আসে পাশের প্রায় ৬ থেকে ৭গ্রামের মানুষদের সঙ্গে নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলন করা হয় দামোদরপুর ছাতা ডাঙা ফুটবল ময়দানে।
এই সাংবাদিক সম্মেলনে হুড়মা ডাঙার আধিবাসী পাড়ার বাসিন্দা বিজয় হাঁসদা বলেন, আমাদের বাবা কাকারা, এই এলাকার কারখানা বসানোর জন্য জমি দিয়েছে। তার বিনিময়ে এলাকার যুবকদের কাজ ও এলাকায় উন্নয়ন হবে আশাবাদী ছিল। কিন্তু তার বদলে পেয়েছে দূষন, ও এলাকার নিরিহ মানুষদের প্রতি অত্যাচার। তিনি বলেন দুষনের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে বাড়িতে বসবাস করার অযোগ্য হয়ে উঠেছে। প্রতিটি বাড়িতে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, হাপানি, মাইগ্রেন, চর্মরোগ সহ ক্যান্সারের মত রোগে ভুগছে। দূষণের জেরে পুকুরের জলে কোয়ার জলে ১ ইঞ্চি পুরু আস্তরন জমে যাচ্ছে। পানীয় জলের জন্য হাহাকার এলাকায়। পুকুর ও কুয়ার জল ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।খাবার খেলে মনে হচ্ছে খাবারের সঙ্গে অন্য কিছু মুখে ভিতরে যাচ্ছে।
দামোদরপুর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা দয়াময় সাহা বলেন, বেকার যুবকদের কাজ নেই। অথচ বাইরে রাজ্যের ছেলেরা কাজ করছে। যারা এলাকার যুবকরা কাজ করছে তাদের মাসিক বেতন খুব বেশি হলে ৭ হাজার অথচ বাইরে রাজ্যের শ্রমিকদের বেতন ২০ থেকে ৩০ হাজার। কেন হবে? এই বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করে তাদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ বলে অভিযোগ। তিনি বলেন কারখানার দুষনের জেরে এলাকার বাসিন্দাদের আস্তে আস্তে মৃত্যুর মুখে নিয়ে যাচ্ছে।
দামোদরপুর গ্রামের বাসিন্দা বাপি নুনিয়া বলেন, কারখানার দূষণে জেরে এলাকার থাকা মুশকিল হয়ে পড়েছে। দুষনের বিরুদ্ধে কারখানা কর্তৃপক্ষ কাছে অভিযোগ জানালে রাতের অন্ধকারে ব্যপক ভাবে দূষন ছাড়ছে। এই জেরে পুকুরে ও কুয়ার জলে মোটা আয়রনের স্তর পড়ে যাচ্ছে। এর জেরে চর্ম রোগ সহ মহিলারা গুপ্ত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি বলেন এখন কারখানায় ৩০০ টনের ক্লিন মেশিন লাগানো আছে তাতে এত দূষন এর পরে ৭০০ টনের ক্লিন মেশিন লাগানো হচ্ছে। তিনি বলেন এই ৭০০ টনের ক্লিন মেশিন কোনো মতে লাগাতে দেওয়া যাবেনা। যদি ৩০০ টনের ক্লিন মেশিনে এই দূষন ছড়ায় তবে ৯০০ টন ক্লিনে কত দূষন ছড়াবে? এই এলাকার ৫-৭টি গ্রামে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছ। তিনি জানান এর বিরুদ্ধে জেলাশাসক, বিডিও, বিধায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। এই বিষয়ে প্রশাসন যদি কোনো পদক্ষেপ না নেয় তবে বড় আন্দোলনের পথে যাব। এই দিনের সাংবাদিক সম্মেলন উপরের বক্তা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গৌত্তম হাঁসদা, আনন্দ কোড়া, সুকুমার হাঁসদা সহ আরও অনেকেই।
PREV
ভবিষ্যৎ তহবিল ও পেনশন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সিএমপিএফও ত্রিপক্ষীয় সমন্বয় কমিটির বৈঠক