
আসানসোল পৌরনিগমের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে মনোনয়ন পত্র দাখিল করলেন ৪টি দলের মনোনীত প্রার্থীরা
শিবরাম পাল, জামুড়িয়া ২আগষ্টঃ-
আগামী ২১ শে আগস্ট আসানসোল পৌরনিগমের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উপনির্বাচন। মঙ্গলবার তৃনমূল কংগ্রেস, সিপিআই(এম), বিজেপি ও কংগ্রেসের মনোনীত প্রার্থীরা মনোনয়ন পত্র দাখিল করলেন আসানসোলের মহকুমা শাসকের অফিসে।
নিয়ম অনুসারে মনোনীত মেয়রকে ৬ মাসের মধ্যে কাউন্সিলার হিসাবে নির্বাচিত হতে হবে। তা নাহলে সাংবিধানিক সংকটের পরিস্থিতি তৈরী হবে। উল্লেখ্য গত ২৫ শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ তৃনমূল দলের নির্দেশ ও সহমত অনুসারে আসানসোল পুরনিগমের মেয়র হিসাবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন বারাবনির বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়। তবে তিনি পুরনিগমের কোনো ওয়ার্ডের কাউন্সিলার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। সেই অনুসারে আগামী ২৫ শে আগষ্টের মধ্যে কাউন্সিলার হিসাবে মেয়রকে নির্বাচিত হতেই হবে। এই পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক সংকট কাটাতে মেয়রকে কাউন্সিলার হিসাবে জয়ী করতে তৃণমূলের অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। উপনির্বাচনের দিন ঠিক হয়েছে ২১ আগষ্ট৷ আসানসোল পুরনিগমের ৬ নং ওয়ার্ডে উপনির্বাচন হবে বলে ঠিক করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত কাউন্সিলার সঞ্জয় ব্যানার্জির পদত্যাগের পর সেখানে উপনির্বাচন হবে বলে জানা গেছে। সেইমত মঙ্গলবার চারটি দলের মনোনীত প্রার্থীরা মনোনয়ন পত্র দাখিল করলেন আসানসোলের মহকুমা শাসকের অফিসে। তৃনমূলের মনোনীত প্রার্থী আসানসোলের মেয়র বিধান উপাধ্যায়, সিপিআই(এম) এর মনোনীত প্রার্থী শুভাশীষ মণ্ডল, বিজেপির মনোনীত প্রার্থী শ্রীদিপ চক্রবর্তী ও কংগ্রেসের মনোনীত প্রার্থী সোমনাথ চ্যাটার্জী।
মনোনয়ন পত্র দাখিল করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রার্থীরা কি বলেন,
বিজেপি প্রার্থী শ্রীদিপ চক্রবর্তীঃ- বিজেপি প্রার্থী শ্রীদিপ চক্রবর্তী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে যে ভ্রষ্টাচার ও দুর্নীতি চলছে তার বিরুদ্ধে সারা বাংলার মানুষ ভারতীয় জনতা পার্টির সাথে এবং পাশে আছে। সকলেই চাই এই দুর্নীতি গ্রস্থ সরকারকে পরিত্যাগ করে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক।তিনি বলেন বাংলার মেধাকে বিক্রি করা হচ্ছে।মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা আজ রাস্তায় আর দুর্নীতিগ্রস্থ চোরেরা আজ স্কুলে। বাংলাকে বাইরের রাজ্যের মানুষ অন্য নজরে দেখছে। তিনি বলেন সুষ্ট নির্বাচন হলে আমরা জিতব এবং জামুড়িয়া থেকে বিজেপি ভোটে জিতে আসানসোলের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে সারা বাংলার মানুষকে পথ দেখাবে।
কংগ্রেস প্রার্থী সোমনাথ চ্যাটার্জীঃ- জেতার ব্যাপারে একশ শতাংশ আশাবাদী তিনি, তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দেবে। তিনি আরও বলেন,আসানসোলের মানুষের জন্য দুর্ভাগ্য এটা যে ৯১ জন তৃণমূল কাউন্সিলর হওয়ার পরেও ৯১ জনের মধ্যে মেয়র পেলেন না। পঞ্চায়েতের একজন ভোটার বিধায়ক তাকে মেয়র করতে হলো।আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য আসানসোল মানুষের জন্য যে এই উপ নির্বাচন প্রয়োজন ছিল না এই উপ নির্বাচন হটাৎ করে মাথায় চলে এলো। তাই প্রথমত এইটা একটা ইস্যু তার সাথে সাথে সারা রাজ্যে যে ভাবে দেখতে পাচ্ছেন চুরি, লুঠ তারপর বিভিন্ন কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে সিবিআই, ইডি পুরো এই তৃণমূল সরকারটাই দুর্নীতিতে ভর্তি এটা আমাদের ইস্যু।
সিপিআই(এম) প্রার্থী শুভাশীষ মণ্ডলঃ- সুষ্ট ভাবে নির্বাচন হলে জেতার ব্যাপারে ১০০ শতাংশ আশাবাদী।আগামী পৌরসভা ভোট লুট করেছিল শাসকদল।তিনি বলেন যে রাজ্যে শিক্ষামন্ত্রী চুরির দায়ে ধরা পড়েছে এবং তার কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা বেরোচ্ছে। তিনি বলেন এটা পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে কোনো দিন ছিলনা।এই প্রথম দেখছে বাংলার মানুষ,তাই তৃনমূলের উপর মানুষের বিতৃষ্ণা জমে উঠেছে।শুধু ভিড় দেখলে হবেনা।মানুষ বুঝে গেছে এই দলটা কোন দিকে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মানুষ জেনে গেছে এর দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুধুমাত্র বামফ্রন্টই করতে পারবে আর কেও না।তাই সুষ্ট ভাবে নির্বাচন হলে সিপিএম জিতবেই বলে দাবি করেন শুভাশীষ বাবু।
টিএমসি প্রার্থী বিধান উপাধ্যায়ঃ- আমরা নির্বাচনে জয়লাভ করবই কারণ এলাকায় যেভাবে উন্নয়ন হয়েছে তাতে মানুষ খুশি। তিনি বলেন অনেক কাজ হয়েছে,যেসব কাজ বাকি রয়েছে সেগুলো জেতার পরেই সম্পন্ন করব।তিনি আরো বলেন তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রতিনিধিরা সব সময় এলাকার মানুষের পাশে থাকে।যেখানে বিরোধীদের দেখতে পাওয়া যায় না।বাংলার মানুষ দিদির উন্নয়ন দেখে যেমন আগের নির্বাচন গুলিতে বিপুল পরিমাণ ভোটে জয়লাভ করিয়েছে এবারও সেইরকম বিপুল পরিমাণ ভোটে জয় লাভ করাবে।