অন্য পুরুষের সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে পড়ে স্ত্রী। সুযোগ বুঝে স্বামীর অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা করেও পুলিশের জালে ধরা পড়ল স্ত্রী ও তার প্রেমিক
স্বামীর অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত করে বাড়িতে চুরির ছক কষে স্ত্রী।সেই মত বাড়ির দরজায় তালা খুলে দিয়ে যায় স্ত্রী।সেই দিন তার প্রেমিক বাড়ি থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা ও ৪ ভরি সোনার গহনা চুরি করে নিয়ে যায়।চুরির অভিযোগ পেয়ে পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল সিসিটিভি ফুটেজ ধরে ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী মমতা রাওনি ও নবীন সিং এর সম্পর্ক খুঁজে পায়।যদিও প্রেমিক যুগলের পুলিশের জালে ধরা পড়ে কপালে জুটল শ্রীঘর।
ঘটনা প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে রানীগঞ্জের পাঞ্জাবি মোড়ের সুকান্তপল্লীর বাসিন্দা অভিজিৎ মুখার্জীর বাড়ি থেকে গত ২৫ শে জুন ৭৫ লক্ষ টাকা ও ৪ ভরি সোনার গহনা চুরি যায়।ঘটনার পরে অভিজিৎ বাবু পাঞ্জাবী মোড় ফাঁড়িতে চুরি যাওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ।প্রথমে অভিজিত বাবুর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে যে চুরির নেপথ্যে রয়েছেন অভিজিৎ বাবুর স্ত্রী।
ঘটনা প্রসঙ্গে জানা যায় সুকান্ত পল্লীর বাসিন্দা ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী অভিজিৎ মুখার্জির স্ত্রী মমতা রওয়ানি, ধানবাদে আইন বিভাগে পড়তে গিয়ে নবীন সিং নামে এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে প্রণয় সম্পর্কে লিপ্ত হয়।পরে তারা পরিকল্পনা করে ২৫ তারিখ বাড়ির তালা খুলে রেখে চলে গিয়ে বাড়িতে চুরি করার জন্য টাকা ও সোনার গহনা রেখে যায় মমতা,এরপরেই নবীন সিং সময় বুঝে ২৫ তারিখ ৭৫ লক্ষ টাকা ও গহনা নিয়ে চম্পট দেয়।এই ঘটনার খবর পুলিশ প্রশাসনকে দেওয়ার পরই পাঞ্জাবি মোড় ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে বিস্তর জিজ্ঞাসাবাদ করে ওই ব্যবসায়ী স্ত্রীর কথায় অসংগতি লক্ষ্য করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই উঠে আসে সমস্ত ঘটনা।এরপর পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল সিসিটিভি ফুটেজ ধরে ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী মমতা রাওনি ও নবীন সিং এর সম্পর্ক খুঁজে পায়। সেখান থেকেই তারা নবীন সিং এর খোঁজ তল্লাশি করে কলকাতার এক ভাড়া বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে নবীনকে।পরে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকা মমতা রওয়ানিকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ।তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই উঠে আসে মূল রহস্য। পুলিশ রানীগঞ্জের এক বাড়ি থেকে ওই নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধার করে।এদিন ধৃত ওই মহিলা ও ব্যক্তিকে আসানসোল জেলা আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।