একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু।খুন না আত্মহত্যা?তদন্তে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ

স্পষ্ট বার্তা, দুর্গাপুর ১৯মার্চঃ-

একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে  ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় ইস্পাত নগরী দুর্গাপুরের কুরুড়িয়া ডাঙা এলাকায়। মৃতরা হলো অমিত মন্ডল ( ৩৭),রুপা মন্ডল,নিমিত মন্ডল(৭)ও নিকিতা মন্ডল (২)। 

জানা গেছে,রবিবার সকাল ৬ টা নাগাদ পেশায় জমির কেনাবেচার কারবারি অমিত মন্ডলের দেহ নিজের বাড়ির দোতলার ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়।সেই ঘরের মধ্যেই তার স্ত্রী রুপা ও তাদের ছেলে  মেয়ের দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।এই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দুর্গাপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী আসে।মৃতের আত্মীয়রা পুলিশকে মৃতদেহগুলি উদ্ধার করতে বাধা দেয়।তাদের দাবি, দুই সন্তানসহ স্বামী ও স্ত্রীকে খুন করা হয়েছে।খুনিদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা যাবেনা। শেষ পর্যন্ত পুলিশ মৃত যুবকের মা বুলারানি মন্ডল ও মামাতো ভাই গৌতম নায়ককে আটক ও অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।মৃতা রুপা মন্ডলের বাবা বিশ্বম্ভর পাল এই ঘটনা নিয়ে দূর্গাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই অভিযোগে ২০ জনের নাম আছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেন,অমিত মন্ডলের মা বুলারানী মন্ডল ও অমিত মন্ডলের মামার বাড়ির লোকেদের গ্রেফতার করে কড়া শাস্তি দেওয়া হোক । নিজেকে মাসতুতো বোন বলে দাবি করা সুদীপ্তা ঘোষ বলেন,অমিত মন্ডল ও তার পরিবারের সবাইকে খুন করা হয়েছে।এই ঘটনার পেছনে রয়েছে অমিতের মোবাইল ফোন থেকে রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ পারিবারিক ওয়াটস এ্যাপ গ্রুপে করা ম্যাসেজ । আরো জানা গেছে,অমিতের বাড়ির সিসিটিভি কালো পলিথিনে ঢাকা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবী পরিবারের সদস্যদের।অভিযোগ, অমিতের মা বুলারানী মণ্ডল এই বাড়িতেই নিচের তলার রুমে ছিলেন।আরো অভিযোগ তিনি তার ছেলে, বৌমা নাতি ও নাতনিকে দেখতে পারতেন না,যা সবাই জানতো।

এই ঘটনা খুন নাকি আত্মহত্যা ?জমি নিয়ে কোন্দল নাকি পারিবারিক সম্পত্তির বিবাদ ?এই খুনের পেছনে কি যুবকের মায়ের সঙ্গে যুবকের মামার বাড়ির হাত রয়েছে ?চারজনের এই মৃত্যুর পিছনে কি অন্য কারোর হাত রয়েছে ?সমস্ত বিষয়ে তদন্তে নেমেছে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ।

আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি ( পূর্ব) কুমার গৌতম বলেন,নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।যুবকের মা ও এক মামাতো ভাইকে আটক করা হয়েছে।পুলিশ সবদিক থেকেই তদন্ত করছে। ঠিক কি কারণে এই ঘটনা,তা এখনই বলা সম্ভব নয়।

About The Author

You might be interested in

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *