রাজনীতির লড়াইয়ে জয় হলেও জীবন মৃত্যুর লড়াইয়ে হেরে গেলেন বাংলার রাজনীতির চাণক্য মুকুল রায়।
স্পষ্ট বার্তা, কলকাতা ২৩ ফেব্রুয়ারি:-
রাজনীতির লড়াইয়ে জয় হলেও জীবন মৃত্যুর লড়াইয়ে হেরে গেলেন বাংলার রাজনীতির চাণক্য মুকুল রায়। সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত দেড়টা নাগাদ শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তাঁর প্রয়াণের খবরে শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে।
এক সময়ে মুকুল রায়ের ব্যাপক দাপট ছিল রাজনীতিতে। তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড ছিলেন তিনি। রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন তিনি। দেশের রেলমন্ত্রী ও জাহাজমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। তবে মন্ত্রী পরিচিতির থেকেও রাজনীতির ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এক সময়ে তাঁকে বঙ্গেশ্বর বলা হত। বর্ণময় রাজনৈতিক জীবন ছিল মুকুল রায়ের। তাঁকে নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। এক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরই তাঁর কথা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তৃণমূলের সংগঠন তৈরি থেকে শুরু করে জমি আন্দোলনের সময়, পরিবর্তনের লড়াইতে গুরুত্বপূর্ণ সৈনিক ছিলেন মুকুল রায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী ভাইফোঁটাও দিতেন তাঁকে। তৃণমূলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
এরপরে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। কৃষ্ণনগর থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ীও হন। তারপরে ২০২১ সালে ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে পতাকা নিয়ে ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন। তবে তখন সঙ্গ ছেড়ে দেয় শরীর। ধীরে ধীরে মূল মঞ্চ থেকে পর্দার আড়ালে চলে যান মুকুল রায়। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত দেড়টা নাগাদ শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।