সুষ্ঠুভাবে কারখানা চলতে না দিলে ভিন রাজ্যে কারখানা তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি কারখানা কর্তৃপক্ষের।বেশ কিছু দিন থেকেই চাকরি ও বেতনের দাবি তুলে জামুড়িয়া শিল্পতালুকের দামোদরপুর গিরিধন মেটালিক কারখানার গেটের সামনে বিক্ষোভ করছিল আখলপুর গ্রামের বেশকিছু মানুষ।কারখানা আধিকারিক সুদিপ্ত ভট্টাচার্য্য বলেন যারা বিক্ষোভ করছে তারা কেউই কারখানার শ্রমিক নয়।তারা দীর্ঘদিন থেকে মাসে ৩ লক্ষ টাকা করে তোলা নিতো।কিন্তু সেই টাকা না দেওয়ায় কারখানার উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত,জামুড়িয়া শিল্প তালুকের শেখপুর এলাকায় অবস্থিত গিরিধন মেটাল প্রাইভেট লিমিটেড নামক এক স্পঞ্জ আয়রন কারখানা কর্তৃপক্ষকে জমির বদলে চাকরি এই বিনিময়ে জমি প্রদান করেছিল আখলপুর গ্রামের বেশ কিছু বাসিন্দা। যার মধ্যে ৩০ জনের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কারখানা কর্তৃপক্ষ।কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রাখেনি কারখানা কর্তৃপক্ষ বলে অভিযোগ করেন বেশ কিছু জমিদাতা।জামিদাতারা আরো বলেন তাদের বিক্ষোভের জেরে কয়েক মাস ধরে গ্রামবাসীদের কাজের বদলে মাসিক টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল কারখানা কর্তৃপক্ষ।ইদানিং সেই টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয় বলে দাবি জামিদাতাদের।তারা জানায় বাধ্য হয়েই গত দশ দিন ধরে তাদের দাবি আদায়ের জন্য ফ্যাক্টরি গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে হয়।
বিক্ষোভকারিদের অভিযোগ মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভ চলার সময় হঠাৎই কারখানার ভেতর থেকে ইট ছুঁড়তে থাকে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে।এর পরেই বিক্ষোভকারিরাও পাল্টা ইট ছুঁড়তে থাকে। কিছুক্ষনের মধ্যে এলাকা রনক্ষত্রের চেহারা নেই।এই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে জামুড়িয়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ মৃদু লাঠি চার্জ করে বলে জানা গিয়েছে সুত্র মারফত।এই ঘটনায় বেশ কয়েক জন অল্পবিস্তর আহত হয় বলে জানা গিয়েছে।তিন জন বিক্ষোভকারি কে আটক করে পুলিশ।
বিক্ষোভকারীদের দাবি পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে সরিয়ে দেওয়া নয় তাদের ওপর বেপরোয়াভাবে লাঠি চালিয়ে মহিলাদেরও মারধর করে বলেই দাবি করে তারা। এই ঘটনার পরেই বিক্ষোভকারিরা আসানসোল জামুড়িয়া মুল রাস্তার উপর আখলপুর ব্রিজের সামনে আটক তিন জন বিক্ষোভকারিকে ছাড়ানোর দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে।এই ঘটনার খবর পেয়ে বিক্ষোভকারিদের সাথে দেখা করে্র জামুড়িয়ার বিধায়ক হরেরাম সিং ও আসানসোল কর্পোরেশনের মেয়র পরিষদ সুব্রত অধিকারী। ওই তিন জনকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে বিক্ষোভকারিরা বলে জানা গিয়েছে সুত্র মারফত। শেষপর্যন্ত চাপের মুখে পুলিশ আটক তিনজন বিক্ষোভকারীকে ছাড়তে বাধ্য হয়। এরপরেই বিক্ষোভ তুলে নেয় বিক্ষোভকারীরা।
অন্যদিকে বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি বলেন, জামুড়িয়ার স্থানীদের চাকরি চাওয়ার অধিকার আছে। তিনি বলেন জামুড়িয়ার মানুষ কারখানার ধুলো ধোওয়া খাবে আর কাজ করবে বাইরের লোক।তা মেনে নেওয়া যায় না।তিনি বলেন আমি সাথে আছি।
PREV
জমি দাতাদের সাথে কারখানা কর্তৃপক্ষের ইটপাটকেল ছোঁড়াছুঁড়ি কে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় কারখানা চত্তরে, পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে