গোরু পাচার মামলায় ধৃত অনুব্রত মন্ডলকে গত ৭ সেপ্টেম্বরের পর বুধবার ফের আসানসোলে সিবিআই এর বিশেষ আদালতে পেশ করা হয় ৷ যেখানে বিচারক রাজেশ চক্রবর্তী দুই পক্ষের সওয়াল জবাব শেষে অনুব্রত মণ্ডলের জামিনের আবেদন খারিজ করে পুনরায় ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন ।কিন্তু দুর্গা পুজোর কারণে আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত আদালতের কাজ বন্ধ হতে চলেছে ৷ এই পরিস্থিতিতে আগামী ২৯ শে অক্টোবর ফের অনুব্রত মন্ডলকে সিবিআই আদালতে পেশ করা হবে ৷ বুধবার শুনানি শেষে এমনটাই নির্দেশ দিয়েছেন আসানসোলের বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক রাজেশ চক্রবর্তী। জানা গিয়েছে এদিনের শুনানির সময় অনুব্রত মন্ডলের আইনজীবী অনিবার্ণ গুহঠাকুরতা ও সন্দীপন গঙ্গোপাধ্যায় তাদের মক্কেলের হয়ে জামিনের আবেদন করেছিলেন। একই সাথে তারা জানিয়েছিলেন, গোরু পাচার মামলায় মুখ্য অভিযুক্ত এনামূল হক সহ বিএসএফ কমান্ড্যান্ট সতীশ কুমার ও অন্যান্যদের ৩২ দিন জেল হেফাজত শেষে জামিন দেওয়া হলেও অনুব্রত মণ্ডলকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না ৷ যেখানে তিনি ইতিমধ্যেই ৪০ দিনের বেশি জেল হেফাজতে রয়েছেন ৷ এছাড়াও ৬৫ বছরের বেশি অনুব্রত মণ্ডলের শারীরিক পরিস্থিতি ঠিক নেই ৷ তিনি নানা প্রকার ব্যাধিতে আক্রান্ত ৷ এই পরিস্থিতিতে তার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করা হোক ৷ অন্যদিকে সিবিআই এর আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, অনুব্রত মণ্ডল একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী লোক । তিনি জামিনে মুক্ত হলে তথ্য প্রমান সহ তদন্ত ও বিচার পদ্ধতিকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখেন ৷ তাছাড়া, গোরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডলের হয়ে দুই এনজিও সংস্থার মাধ্যমে প্রচুর টাকার লেনদেন এর প্রমান পাওয়া গেছে ৷ একই সাথে বহু অর্থ ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে হস্তান্তর হয়েছে ৷ এছাড়াও বহু নামি ও বেনামি সম্পত্তির হদিস পাওয়া গেছে ৷ এর প্রতিবাদে অনুব্রত মণ্ডলের আইনজীবীরা বলেন,প্রভাবশালী তত্ত্বে অনুব্রতকে বীরভূম জেলায় ঢুকতে না দিলেও চলবে ৷ প্রয়োজনে সপ্তাহে তিনদিন নিজাম প্যালেসে হাজিরা দিতেও রাজি আছেন অনুব্রত ৷ তাছাড়া অনুব্রত মণ্ডলের সমস্ত সম্পত্তির হিসেব আদালতে পেশ করা হয়েছে ৷ এই পরিস্থিতিতে অনুব্রত মণ্ডলের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করা হোক ৷ যদিও দুপক্ষের শুনানির শেষে বিচারক অনুব্রত মন্ডলের জামিনের আবেদন খারিজ করে পুনরায় জেল হেফাজতে পাঠিয়েছেন। এদিন আদালত থেকে বেরোনোর সময় অনুব্রত মণ্ডলকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ।