অসুস্থতার কারন দেখিয়ে আর পার পেলনা অনুব্রত। এই সময় আর কাজে লাগলোনা গুড় বাতাসা, নকুলদানা কিম্বা পাচন। বোলপুরের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে আসানসোলের বিশেষ সিবিআই(CBI) আদালতে তোলা হয় অনুব্রত মণ্ডলকে।
গরু পাচার কান্ডে সিবিআই ১০ বার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠালেও একবার হাজিরা দিয়ে ৯ বার অসুস্থতার কারন দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন। গতকালও নিজাম প্যালেসে হাজিরা দেওয়ার কথা থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে অসুস্থতার কারন দেখাতে গিয়ে পর্দাফাঁস হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার ভোরে বোলপুরের বাড়িতে কেন্দ্র বাহিনীর জওয়ান নিয়ে হাজির সিবিআই এর(CBI) উচ্চ আধিকারিকেরা।তার অসহযোগিতা ও বারবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠালে নিজাম প্যালেসে হাজিরা না দেওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করে সোজা আসানসোলের বিশেষ সিবিআই(CBI) আদালতে তোলা হয়। ১৪ দিনের সিবিআই হেপাজত চেয়ে আবেদন জানালে আসানসোল আদালত তা ৯ দিনের হেপাজত মঞ্জুর করে আগামি ২০ আগস্ট পরবর্তী শুনানির তারিখ দেন।
গরু পাচার মামলায় বুধবার সকালে বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হওয়ার কথা শুনে আসানসোলে রাস্তায় নেমে পড়লেন বিজেপি, সিপিএমের নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা। আসানসোল আদালতে অনুব্রত মন্ডলকে আনা হচ্ছে এই খবরে বিজেপি নেতা ও কর্মীরা আসানসোল আদালত চত্বরে পৌঁছে যান। তাদের সঙ্গে ছিলেন আসানসোল দক্ষিণ বিধান সভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্য সাধারণ অগ্নিমিত্রা পাল। আসানসোলের এসবি গরাই রোডের কোর্ট বাজার সংলগ্ন রেল গেট থেকে মিছিল করে তাদেরকে লোকদের মধ্যে নকুলদানা বিতরণ করতে দেখা যায়। অন্যদিকে বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল ঢাক বাজিয়ে মানুষের মধ্যে নকুলদানা বিতরণ করেন। আসানসোল আদালত চত্বরে পশ্চিম বর্ধমান জেলা সিপিএমের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ দেখানো হয়। দলের পতাকার পাশাপাশি সিপিএমের নেতা ও কর্মীদের নকুলদানা বিলি করা হয়। এই বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য পার্থ মুখোপাধ্যায়।
জানা গিয়েছে অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকে সিবিআই জেরায় গরু পাচারের টাকা সরাসরি ভাবে কাদের কাদের যেত। তবে কি এই গরু পাচারের টাকা সরাসরি অনুব্রত মণ্ডলের কাছে যেত?না আরও কোনো নেতা মন্ত্রীদের কাছে যেত? সেই উত্তরের অপেক্ষায় গোটা রাজ্যের মানুষ।